০১ এপ্রিল ২০২৫

সৌরভ হোসেন সিয়াম (প্রেস নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশিত: ২০:২০, ২৮ মার্চ ২০২৫

ঈদযাত্রা: ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ঈদযাত্রা: ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ঈদের ছুটি কাটাতে স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে শ্বশুরবাড়ি যাবেন একটি পোশাক কারখানার কর্মী আশিক চৌধুরী৷ থাকেন নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে৷ সেখান থেকে সাইনবোর্ড এসেছেন বাসের টিকেট কাটতে৷ তবে, নিয়মিত ভাড়ার তুলনায় ২০০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে৷

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় আশিকের সাথে৷ কারখানায় অর্ধবেলা কাজ শেষে ছুটি পেয়ে রওয়ানা হয়েছেন তিনি৷

আশিক বলেন, “হানিফ পরিবহনের দু’টি টিকেট কিনেছি৷ রেগুলার ভাড়া ৬০০ টাকা হলেও ভাড়া নিছেন ৭০০ টাকা করে৷ আবার ১০০ টাকা ঈদ-বোনাস হিসেবেও চেয়ে নিয়েছেন কাউন্টারের লোকজন৷”

ভাড়া বেশি নিলেও তেমন ‘আক্ষেপ’ নেই জানিয়ে এ পোশাক কর্মী বলেন, “নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছাতে পারলেই হলো৷”

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করলেন শিমরাইল যাত্রী ছাউনিতে বাসের অপেক্ষায় থাকা কাজল ও আসমা বেগম নামে আরও দুই নারী পোশাক শ্রমিক৷

আসমা থাকেন নারায়ণগঞ্জের চৌধুরীগাঁও এলাকায়৷ যাবেন গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জে৷ নামবেন হাজীগঞ্জ শহরের পরের স্টপেজে৷ মা ও শিশু ছেলেকে গত শুক্রবারই পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ ছুটি পেয়ে আজ নিজে রওয়ানা হয়েছেন৷

আসমা বলেন, “আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া নিছে৷ কিন্তু গত সপ্তাহে মাকে পাঠিয়েছি ২৮০ টাকা ভাড়ায়৷ ঈদে সবসময়ই বেশি ভাড়া দিতে হয়৷ সরকারও এডি থামাইতে পারে না৷”

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ বেড়েছে৷ যদিও অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার যাত্রীর চাপ কম বলে দাবি করছেন পরিবহনগুলোর কাউন্টারে থাকা টিকেট বিক্রেতারা৷

তবে, যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, যাত্রীর চাপ থাকায় বাসে প্রত্যাশিত আসন মিলছে না৷ কেননা রাজধানীর প্রধান কাউন্টারগুলো থেকেই লোকজন টিকেট কাটছেন বেশি৷ ফলে পরের কাউন্টারগুলোতে প্রত্যাশিত আসন পাচ্ছেন না৷ অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরও অভিযোগ তাদের৷

যদিও অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ অস্বীকার করছেন পরিবহনের সংশ্লিষ্টরা৷ তারা বলছেন, নিয়মিত ভাড়াই আদায় করছেন না৷ এমনকি আশানুরূপ যাত্রীও পাচ্ছেন না বলে দাবি তাদের৷

ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিশা পরিবহনের কাউন্টারে থাকা শাহ আলম বলেন, “ভাড়া বাড়ানো হয়নি৷ বরং ২০ থেকে ৫০ টাকা কমও নিচ্ছি৷ কারণ, শুক্রবার যাত্রীর যে চাপ হবার কথা তেমন পাচ্ছি না৷ রাস্তায় গাড়ি বেশি কিন্তু যাত্রী কম৷ ঈদ উপলক্ষে অনেক পরিবহনের বাসই মহাসড়কে নামানো হয়েছে যেগুলো নিয়মিত চলে না৷”

সরেজমিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাইনবোর্ড, শিমরাইল, কাঁচপুর এলাকার তিনটি বাসস্ট্যান্ডে চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে৷ বাসের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো৷ নিয়মিত পরিবহনগুলোর বাইরেও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত কিছু পরিবহনের বাসও নেমেছে মহাসড়কে৷ যাত্রীদের হাকডাকে মুখর ছিল বাসস্ট্যান্ডগুলো৷

সাইনবোর্ড এলাকায় মারশা ট্রান্সপোর্ড লিমিটেড নামে পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার এসএ মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে ঘরমুখো যাত্রীর আনাগোনা বেড়েছে৷ তবে, এবার ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়াতে যাত্রীর চাপ খুব একটা বেশি না৷

“ছুটি বেশি থাকায় যে যার সুবিধা মতো সময়ে গ্রামে রওয়ানা হইছে৷ অনেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের আগেই বিভিন্ন মাধ্যমে পাঠিয়ে দিছে৷ ট্রেনযাত্রা এবার সহজ হওয়ায় অনেকে ওইদিক দিয়া গেছে৷ তারপরও বাসে যাত্রী যা আছে তাও খারাপ না৷”

এদিকে, শিমরাইল এলাকায় নোয়াখালীর কোনো বাসে সিট না পাওয়ার কথা জানান জাফর হোসেন৷ বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করেন তিনি৷ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা তার অপর তিন সহকর্মীর বাড়িও নোয়াখালীতে৷

“লোকজনের প্রচুর ভিড়৷ বেশিরভাগ টিকেটই ঢাকা থেকে বেশি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে৷ এইখানে তিনটা পরিবহনে জিগাইলাম কয়, টিকেট নাই৷ অপেক্ষা করতেছি দেখি পরের কোনো লাইনের টিকেট পাই কিনা”, বলছিলেন জাফর৷

এমন সময় তাদের এক সহকর্মী হন্তদন্ত হয়ে এসে জানান, চারটি টিকেট পাওয়া গেছে কিন্তু তাও একেবারে পেছনের আসনে৷ উপায়ান্তর না পেয়ে ওই বাসেই ওঠার প্রস্তুতি শুরু করে দেন তারা৷

ঈদ উপলক্ষে যাত্রী ও পরিবহনের চাপ থাকলেও দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দেশের অতিগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দু’টিতে তীব্র যানজট দেখা যায়নি৷

তবে, একলেন থেকে ছয় লেনে উন্নীতের কাজ চলমান থাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে থেমে থেমে চলছিল যানবাহনগুলো৷

এ মহাসড়কের কাঁচপুর, তারাব, রূপসী এলাকায় হালকা যানজট দেখা গেলেও তা দীর্ঘমেয়াদী ছিল না৷ এ পয়েন্টগুলোতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদেরও তৎপরতা দেখা গেছে৷

মহাসড়কে যাত্রী ওঠানো-নামানোয় অনিয়ম দেখা গেছে৷ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দু’টির পাশে স্থায়ী কোনো টার্মিনাল না থাকায় সড়কের উপরেই এলোপাথারিভাবে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করতে দেখা গেছে৷ এছাড়া, মহাসড়কে ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মতো ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচলও ছিল৷

যদিও মহাসড়কে শৃঙ্খলা রাখার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি সাইনবোর্ড ও শিমরাইল স্ট্যান্ডে দেখা যায়নি৷

তবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল হাইওয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু নাঈম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হাইওয়ে পুুুুুুলিশের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন৷ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তাদের তৎপরতা রয়েছে৷

সর্বশেষ

জনপ্রিয়